স্বাস্থ্য সেবা

যুক্তরাজ্যের নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা যা জানি

যুক্তরাজ্যের নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা যা জানি! জেনেটিক মিউটেশন- ভাইরাস মিউটেশনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে যেমন ধরেন করোনা তো প্রথমে বাদুরে আর উটের হতোতাহলে মানুষের কেমনে হলো? কারন অনেক ভাইরাস নিজের মিউটেশনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে অন্য জীবে(পোষাক দেহে) সংক্রমণ ঘটায়আবার অনেক ভাইরাস মিউটেশনের মাধ্যমে আরো শক্তিশালী হয়।  এখন প্রশ্ন করোনার কার্যকরী ভ্যাক্সিন আবিস্কারে এতো দেরি হচ্ছে কেন? একটা ভাইরাস কে ২ ভাবে মারা যায় তার বাইরের প্রোটিন আবরণ ধ্বংস করে অথবা নিউক্লিক এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে
যার ২ টা জিনিস করাই অনেক সহজকিন্তু সমস্যা হলো এই মিউটেশন আপনি এমন ভ্যাক্সিন আবিস্কার করলেন যা তার নিউক্লিক এসিডকে ধ্বংস করে কিন্তু ভাইরাস এর প্রতিরোধের জন্য তার মিউটেশনের মাধ্যমে নিউক্লিক এসিডের গঠন চেঞ্জ করে ফেললো ফলে ওই ভ্যাক্সিন অকার্যকর হবেকরোনা এখন পর্যন্ত বহু সংখ্যক বার মিউটেশন ঘটাইছেতাই তা প্রতিরোধ করতে সবাইকে এতো কষ্ট করতে হচ্ছে

যুক্তরাজ্যের নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা যা জানি:

বিলেতে যে নতুন এক করোনাভাইরাস নিয়ে শোরগোল শোনা যাচ্ছে মনে হয় জানেন। আজ বাংলাদেশে ডিসেম্বরের বাইশ তারিখ, সময় রাত এগারোটা দশ। আমার লেখার বিষয়বস্তু হল বাইশে ডিসেম্বর এগারোটা দশ পর্যন্ত এই নতুন জাতের করোনাভাইরাস সম্পর্কে আমাদের যতখানি জ্ঞান। এগারোটা এগারোতে আমাদের জানা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে- আগেই বলে রাখলাম।
ভাইরাসের জাত
আপনি হচ্ছেন আন্টি এবং আঙ্কেলের বংশবিস্তারের ফলাফল- বাংলা সিনেমায় যাকে বলে ভালবাসার ফসল। কিন্তু আপনার চেহারা হুবহু আন্টির মত নয়, আবার হুবহু আঙ্কেলের মতও নয়। বংশবিস্তার প্রক্রিয়ায় তাদের জীবন নকশার- যাকে বলে জিনেটিক্সের- মধ্যে খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। জীব মাত্রই বংশবিস্তারের সময় এ ধরণের পরিবর্তন হয়।
করোনাভাইরাসও এক ধরণের জৈবিক প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে, কাজেই সেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। প্রত্যেক দফা বংশবিস্তারের সময় তার বাচ্চাকাচ্চার মধ্যে খানিকটা করে পার্থক্য তৈরি হয়। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন- তাদের ফুসফুসের মধ্যে এই বজ্জাতটা বিপুল বিক্রমে বংশবিস্তার করে যাচ্ছে। বংশবিস্তার করতে করতে প্রতিনিয়তই তার বাচ্চাকাচ্চার মধ্যে একটু একটু করে পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থাৎ এখনকার পৃথিবীতে প্রতি মিনিটেই নতুন চেহারার করোনাভাইরাস তৈরি হচ্ছে।
এই যে এরকম বংশবিস্তারের সাথে সাথে ভাইরাসের চেহারায় পরিবর্তন আসে- এই ব্যাপারটাকেই বইয়ের ভাষায় বলে মিউটেশান। আশা করি বুঝতে পারছেন, ভাইরাসের মধ্যে মিউটেশান হওয়া এমনিতে ভয়ের কিছু নয়। এটা নিতান্তই একটা দৈনন্দিন জৈবিক প্রক্রিয়া- আমাদের নিশ্বাস-প্রশ্বাস বা গাছের সালোকসংশ্লেষণের মত। প্রত্যেকটা নিশ্বাস নিয়ে যেমন আমাদের চিন্তা করতে হয় না, একইভাবে পৃথিবীময় কোটি কোটি করোনাভাইরাসের অর্বুদ নির্বুদ নতুন চেহারা নিয়েও আমাদের ভাবতে বসার দরকার নেই।
চিন্তার কথাটা তখনই আসে- যখন এরকম কোন “মিউটেশান”-এর ফলে ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। ধরুন এরকম কোন মিউটেশানের ফলে ভাইরাসটা আরো দ্রুত ছড়াতে শিখে গেল, তখন হর্তাকর্তাদের হাসপাতালের বিছানা বা আইসিইউয়ের সংখ্যা নিয়ে ভাবতে হয়। সেটা সিরিয়াস।
কাজেই যুক্তরাজ্যে যে নতুন চেহারার একটা ভাইরাস দেখা যাচ্ছে, সেটা এমনিতে দুশ্চিন্তার নয়- নতুন চেহারার ভাইরাস প্রতিনিয়তই তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন হল, এই নতুন চেহারার ভাইরাসের কি সেরকম কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে, যা আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে?
এটাই আসল প্রশ্ন।

নতুন জাত = নতুন বৈশিষ্ট্য?

এই প্রশ্নের এক কথায় উত্তর হল- এখন পর্যন্ত এই মর্মে আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই।
ভুলে যাবেন না, আমরা কিন্তু কথা বলছি বাইশে ডিসেম্বর এগারোটা দশ মিনিটে- এগারোটা এগারোতে নতুন প্রমাণ হাজির হবে কিনা জানি না। কিন্তু এগারোটা দশের হিসেব অনুসারে নতুন চেহারার করোনাভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তার আলাদা কারণ নেই।
কাহিনী খোলাসা করা যাক।
বিগত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা লক্ষ্য করলেন, দেশের দক্ষিণে একটা বিশেষ চেহারার করোনাভাইরাস রোগীদের মধ্যে একটু বেশি বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা দেখে তাদের খানিকটা সন্দেহ হল- তারা এর নকশার ওপর অস্ত্রোপচার চালিয়ে- যেটাকে বলে আরএনএ সিকোয়েন্সিং করে- বুঝলেন, এর গায়ে বেশ কিছু নতুন পরিবর্তন এসেছে।
তো এরকম একটা নির্দিষ্ট চেহারার ভাইরাস এত বেশি রোগীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে কেন? এখান থেকেই দুশ্চিন্তার শুরু।
কিন্তু এত তাড়াতাড়ি দুশ্চিন্তা করার সেরকম কারণ নেই। একটা চেহারার ভাইরাস রোগীদের মধ্যে বেশি বেশি দেখা গেলেই যে সেটা বেশি ছড়াতে পারে- এরকম সিদ্ধান্তের মধ্যে একটা ফাঁক আছে। ফাঁকটা বোঝার জন্য একটা উদাহরণ চিন্তা করুন।
ধরুন আপনার ফুসফুসের মধ্যে এক জাতের করোনাভাইরাস বাসা বেঁধেছে। গল্পের সুবিধায় ধরে নিলাম এই ভাইরাসটার গায়ে একটা রঙ আছে- ধরে নিন রঙটা গোলাপি। আসলে এসব নিতান্তই অবাস্তব- ভাইরাসের অত রঙঢং থাকে না। কিন্তু এই গাঁজাখুরি গল্পটার মধ্যে আপনি গোলাপি ভাইরাস বুকের মধ্যে নিয়ে দিন পার করছেন।
এর মধ্যে একদিন ফেসবুকে দেখলেন, সামনে আপনার এক ক্লাসমেটের বিয়ে। বন্ধুর বিয়েতে যাওয়া ঈমানী দায়িত্ব মনে করে আপনি অনুষ্ঠানে হাজির হলেন। সেখানে গিয়ে কমিউনিটি সেন্টার ভর্তি মানুষের সাথে কোলাকুলি, খানাপিনা, সেলফি- কিছুই করতে বাকি রাখলেন না। আপনার ভেতরে যে গোলাপি করোনা বাস করছে, সেদিকে কোন খবর নেই।
কিছুদিন পর চাউর হয়ে গেল- দেশের একটা নির্দিষ্ট জায়গাতে একটা অদ্ভুত চেহারার করোনাভাইরাস অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ভাইরাসটার রঙ কোন কারণে গোলাপি। এত এত রোগীর মধ্যে যেহেতু গোলাপি করোনা দেখা যাচ্ছে- তার মানে নিশ্চয়ই এটা বেশ দ্রুত ছড়ায়। নাহলে এত মানুষের মধ্যে একই জিনিস দেখা যাবে কেন?
আসল ঘটনা কিন্তু আমরা জানি। আপনি সেদিন সেই কমিউনিটি সেন্টারে গিয়েছিলেন এবং হলসুদ্ধু মানুষের মধ্যে মহানন্দে আপনার ভাইরাসটা ছড়িয়ে এসেছিলেন। তারা বাসায় গিয়ে তাদের পরিবার-প্রতিবেশীর মধ্যে গোলাপি ভাইরাস ছড়িয়েছে। কাজেই আপনার থেকে শুরু হয়ে মোটামুটি পুরো এলাকাতেই গোলাপির রাজত্ব কায়েম হয়ে গেছে।
লক্ষ্য করুন, এখানে কিন্তু গোলাপির কোন কৃতিত্ব নেই- কৃতিত্ব আপনার।গোলাপি যে এত মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তার কারণ তারা দুর্ভাগ্যবশত আপনার কাছ থেকে এই বিশেষ চেহারার ভাইরাসটা পেয়েছে। এর সাথে ভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক আছে স্থান-কাল-পাত্রের।
বিবর্তনশাস্ত্রে এই ঘটনার একটা নাম আছে- ফাউন্ডার ইফেক্ট। এই ফাউন্ডার ইফেক্টের কারণে কোন বিশেষ চেহারার ভাইরাসকে অনেক বেশি “ছড়াতে” দেখা যেতে পারে, যদিও এখানে ভাইরাসের নিজের কোন কৃতিত্ব নেই।
এজন্যই যুক্তরাজ্যের এত মানুষের মধ্যে ঐ বিশেষ চেহারার ভাইরাস দেখে এখনও বলার সুযোগ নেই যে, এই ভাইরাসটা দ্রুত ছড়ায়। এটার ঐ বিয়েবাড়ি জাতীয় ব্যাখ্যাই থাকতে পারে- হয়ত এই বিশেষ চেহারার ভাইরাসঅলা রোগীরা ইচ্ছেমত ছড়াতে দিয়েছেন। সত্যি কথা বলতে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ করোনা কেইসের জন্য দায়ী হল এই বিয়েবাড়ি বা ভিড়ভাট্টা জাতীয় জায়গায় দু-একজন অতি উৎসাহী করোনাঅলার আনাগোনা (তথ্যসূত্র দেখুন)।
এই গেল সন্দেহের প্রথম কারণ। ভাইরাসটা যে দ্রুত ছড়াতে পারে, এটা ভাবার অবশ্য আরো দু’য়েকটা কারণ আছে।
যুক্তরাজ্যের এই ভাইরাসটার মধ্যে কয়েকটা পরিবর্তন হয়েছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। ভাইরাসকে যদি অসুখ বাঁধাতে হয়, তাহলে প্রথমে তাকে আমাদের দেহকোষের তালা খুলে ভেতরে ঢুকতে হবে। এই তালাগুলো খোলার জন্য তার গায়ে একটা বিশেষ গঠন আছে- গবেষণাপত্রে সেটাকে বলে স্পাইক (বাংলায় গজাল) প্রোটিন। জিনিসটা দেখতে তিনকোণা এবং একমাথা গজালের মত সরু হয়ে গেছে বলেই এরকম নাম।
তো করোনা যখন রোগ সৃষ্টি করে, তখন সে এই গজাল প্রোটিনের একটা নির্দিষ্ট জায়গা কোষের গায়ে ঠেকায়। এর ফলে জায়গাটাতে একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় এবং আমাদের কোষের খানিকটা জায়গা খুলে যায়। সেই খোলা জায়গা দিয়ে হতচ্ছাড়া কোষের ভেতরে ঢুকে সর্বনাশ করে।
যুক্তরাজ্যে করোনার যে নতুন চেহারাটা দেখা যাচ্ছে, সেখানে একটা পরিবর্তন হয়েছে ঠিক এই চাবিটার মুখে। এটা দেখেই বিজ্ঞানীরা একটু অস্বস্তিতে ভোগেন- ভাইরাস ব্যাটা কি চাবিতে পরিবর্তন করে আরো পাকা চোর হয়ে উঠছে নাকি? পরিবর্তিত চাবি দিয়ে কি সে আমাদের কোষে আরো সহজে ঢুকতে পারবে?
কিন্তু এখন পর্যন্ত এটা নেহায়েতই একটা সন্দেহ- পরিবর্তনটার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এরকম উতলা হয়েছেন। আসলেই যে এই পরিবর্তনের ফলে ব্যাটা আরো চটপটে হয়, এই মর্মে কোন প্রমাণ নেই।
মজার ব্যাপার হল, এই নতুন চেহারার ভাইরাসের মধ্যে অন্য আরেকটা পরিবর্তনও এসেছে, যেটার ফলে এর তৎপরতা একটু কমে যায়। সিঙ্গাপোরের ভাইরাসের মধ্যে এই একই বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। সেটা হলে যুক্তরাজ্যের ভাইরাসটা নিয়ে চিন্তা দূরে থাক, বরং আমাদের খুশি হওয়া উচিত।

তাহলে আমরা কীভাবে বুঝব ভাইরাসটা আসলেই চিন্তার বিষয় কিনা?

এর জন্য গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোন উপায় নেই। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের সন্দেহের কারণ হল রোগীদের মধ্যে ভাইরাসের উপস্থিতির হার, আর ভাইরাসের মধ্যে এই পরিবর্তনগুলোর সন্দেহজনক অবস্থান (আরো দু’য়েকটা কারণ আছে- পরিশিষ্ট দেখুন)। এগুলো কোনটাই আসলে দুশ্চিন্তার খুব শক্ত ভিত্তি নয়।
ভাইরাসটা আসলেই দ্রুত ছড়ায় কিনা সেটা বের করার জন্য বিজ্ঞানীদের পরীক্ষাগারে কিছু কোষ নিয়ে তাদের মধ্যে দু’জাতের ভাইরাস ছেড়ে দিতে হবে- এক হচ্ছে পুরোনো, চেনা বান্দা, আরেক হচ্ছে এই নতুন যুক্তরাজ্যের বান্দা। এর পর যদি দেখা যায় পুরোনোটার চেয়ে নতুন বজ্জাতটার ছড়ানোর হার বেশি, তখন বিজ্ঞানীদের সন্দেহ আরেকটু পোক্ত হবে। শুনে জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু এ ধরণের পরীক্ষা বিজ্ঞানীরা হরহামেশাই করে থাকেন। এই করোনাভাইরাসেরই আরেক জাতের ক্ষেত্রে তারা এই পদ্ধতিতে ব্যাটাদের বাজিয়ে দেখেছেন।
তার আগ পর্যন্ত- অন্তত এগারোটা দশ পর্যন্ত- এই নতুন চেহারার বিলেতি শয়তান নিয়ে আমাদের আলাদা করে চিন্তিত হবার কারণ নেই।

তাহলে এটা নিয়ে এত হইচই কেন?

আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না- করোনা মহামারীটা যখন প্রথম শুরু হল, তখন কিন্তু দুনিয়ার তাবৎ বিশেষজ্ঞরা আমাদের পই পই করে বলছিলেন- মাস্ক পরে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন লাভ হবে না। খামোখা মাস্ক কিনে লাভ নেই। কিন্তু তার মাসতিনেক পেরোতেই তারা বলা শুরু করলেন- মাস্ক পরলে করোনার বিরুদ্ধে অবশ্যই লাভ হয়। মাস্কের ব্যবহার অতি জরুরি। মাস্ক না পরনেঅলারা দেশ ও জাতির শত্রু।

এই বিপরীতমুখী কথার কারণ কী?

এক কথায় বলতে গেলে, এটা এক ধরণের তথ্যরাজনীতি। মাস্ক পরে যে করোনাভাইরাস, এবং শ্বাসযন্ত্রের যেকোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লাভ হয়- তা বিজ্ঞানীরা গোড়া থেকেই জানতেন, এমনকি মহামারীর অনেক আগে থেকেই। কিন্তু প্রথমদিকে তাদের ভয় হচ্ছিল, সাধারণ মানুষ যদি গণহারে মাস্ক কেনা শুরু করে, তাহলে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্কের অভাব হতে পারে। এনাদের তো মাস্কের দরকার সবচেয়ে বেশি। কাজেই সাধারণ মানুষকে মাস্ক কেনা থেকে দূরে রাখা দরকার।
তার মাসতিনেক পরে যখন যথেষ্ট পরিমাণে মাস্ক সহজলভ্য হয়ে গেল- তখন তারা সত্যিটা বলা শুরু করলেন। এই পুরো নাটকটা নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত জানতে আমার একটা লেখা পড়তে পারেন- লিঙ্ক কমেন্টে দেওয়া হচ্ছে।
করোনা মৌসুমে এই তথ্যরাজনীতি অনেক বেশি চলে। বিশেষজ্ঞরা কথা বলার সময় সত্য-মিথ্যা ভাবার আগে চিন্তা করেন- কোন কথাটা কীভাবে বললে জনগণের লাভ হবে। এখানেও তাই হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এটা বড়দিনের মৌসুম- কিছুদিন পর দেশময় মানুষ প্লেন-বাসে যাত্রা করে তাদের প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হবে। এটা ভাইরাস ছড়ানোর খুব ভাল সময়। এর আগে গত ক’মাসে যতবারই কোন উৎসব হয়েছে, তার পরপরই ভাইরাস ছড়ানোর একটা উঠতি দেখা গেছে।
বড়দিন উপলক্ষ্যেও সেরকমটাই আশা করা উচিত। এর ওপর যদি আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত করোনা নতুন, ভয়াবহ কোন চেহারা নিয়ে উপস্থিত হয়- তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে। কাজেই অত প্রমাণ-টমাণের অপেক্ষা করার দরকার নেই- এই যে নতুন চেহারার ভাইরাসকে নিয়ে একটু সন্দেহ হচ্ছে, সেই সন্দেহটাকেই আমরা সিরিয়াসলি নেওয়া শুরু করি। পরে যেন প্রমাণের অপেক্ষায় বসে থাকার জন্য আবার প্রমাদ গনতে না হয়।
লিখেছেন- Hassan Uz Zaman Shamol
পরিশিষ্ট ও তথ্যসূত্র:
——————–
নতুন করোনাভাইরাসের এই চেহারা নিয়ে সন্দেহের আরো দুয়েকটা কারণ আছে। যেমন, কমবয়স্কদের মধ্যে এই জাতটার উপস্থিতির হার অপেক্ষাকৃত বেশি। এই জাতের ভাইরাস যেসব কোষে ঢোকে, তাদের মধ্যে ভাইরাসের আরএনএর উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তবে এগুলোও পরোক্ষ সন্দেহ, এবং এদের পেছনে অন্যান্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে। প্রত্যক্ষ প্রমাণ ঐ একই- জীববিজ্ঞানের পরীক্ষাগার।
এই জিনিস নিয়ে আরো জানতে পড়ুন-
https://www.gisaid.org/…/uk-reports-new-variant-termed…/ (NERVTAG এর লিঙ্কটাও দেখুন)
আমার প্রিয় একজন বিজ্ঞান সাংবাদিক কার্ল জিমারের সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা- https://www.nytimes.com/…/health/new-covid-strain-uk.html
ভাইরোলজি প্রফেসর ভিনসেন্ট রাকানিয়েলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করছেন, কেন এই ভাইরাসের জাত নিয়ে এখনও দুশ্চিন্তার সময় আসেনি- www.youtube.com/watch?v=wC8ObD2W4Rk
ভেতরে যে বললাম, করোনাভাইরাস প্রায়ই ছড়ায় এক-দু’জন মানুষের মাতব্বরির কারণে, তার পক্ষে গবেষণাপত্র- Adam, D., Wu, P., Wong, J., Lau, E., Tsang, T., Cauchemez, S., Leung, G. and Cowling, B., 2020. Clustering and superspreading potential of severe acute respiratory syndrome coronavirus 2 (SARS-CoV-2) infections in Hong Kong.
More Post About Coronavirus:

আইন ব্যবসায়ী

আইনজীবী হলেন 'আইন ব্যবসায়ী', যিনি একজন এ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার, এটর্নি, সলিসিটর বা আইনি উপদেশক। আইনজীবী মূলত আইনের তাত্ত্বিক বিষয়গুলির বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তির বা সংস্থার আইনি সমস্যার সমাধানের কাজ করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button