Information

ভাইভা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় নিচের ৭৭ টি প্রশ্ন! ভাইভার কিছু কমন প্রশ্ন!

ভাইভা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় নিচের ৭৭ টি প্রশ্ন! ভাইভার কিছু কমন প্রশ্ন! (সরকারি চাকরি /বেসরকারি চাকরিতে)। ভাইভা বোর্ডে যাঁরা থাকেন, তাঁরা কিন্তু নানাভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই আপনাকে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেবেন। একজন চাকরিপ্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি তাঁর স্মার্টনেস, উপস্থাপন কৌশল, বাচনভঙ্গি এসব বিষয়ও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ভাইভার কিছু কমন প্রশ্ন

ভাইভা বোর্ডে ঢুকেই অনেকে নিজের অজান্তে প্রথমেই নিজেকে অযোগ্য প্রমাণ করেন বসেন। নিয়োগদাতারা তেমন কোনো প্রশ্ন না করেই বা সৌজন্যতার খাতিরে দু-একটি প্রশ্ন করেই বিদায় করে দেন। এ রকম পরিস্থিতি এড়াতে ও নিজেকে যোগ্য করে উপস্থাপন করার জন্য কিছু কৌশল আছে যা আমরা পরবর্তী পোস্টে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করব ; এখন আসি সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরীর ভাইভা তে সাধারণত ফ্রেশার এবং চাকুরীর পূর্ব অভিজ্ঞদের যেসকল প্রশ্ন করা হয় সে প্রসঙ্গে।

ভাইবা বোর্ডে যে প্রশ্নগুলোপ্রায় ই করা হয়-
1. আপনার নাম কি?-
2. আপনার নামের অর্থ কী?-
3. এই নামের একজন বিখ্যাতব্যক্তির নাম বলুন?
4. আপনার জেলার নাম কী?-
5. আপনার জেলাটি বিখ্যাত কেন?-
6. আপনার জেলার একজন বিখ্যাতমুক্তিযোদ্ধার নাম বলুন?-
7. আপনার বয়স কত?-
8. আজ কত তারিখ?
9. আজ বাংলা কত তারিখ?-
10. আজ হিজরি তারিখ কত?-
11. আপনি কি কোনো দৈনিকপত্রিকা পড়েন?-
12. পত্রিকাটির সম্পাদকের নামকি?
13. আপনার নিজের সম্পর্কে সমালোচনা করুণ।
14. আপনার জেলার নাম কি? জেলা সম্পর্কে ১ মিনিট বলুন।
15. আপনার জেলার বিখ্যাত কিছু মানুষের নাম বলুন এবং তারা কিকারনে বিখ্যাত তা আলোচনা করুণ।
16. আপনার বয়স, জন্ম তারিখ কত?
17. আপনি কি কোন দৈনিকপত্রিকা পড়েন? পড়লে সম্পাদকের নাম কি?
18. বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যা জানেন তা বলেন?
19. আপনার পরিবার সম্পর্কে বলুন।
20. আমরা আপনাকে কেন চাকুরিটা দিব?
21. বিয়ে করেছেন? কেন করেছেন/করেননি? বিবাহ সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনা কি?
22. আরো পড়াশুনা করার ইচ্ছা আছে কি? কেন নেই ইচ্ছা?
23. এর আগে কোথায় জব করেছেন? সেখানে কি ধরনের কাজ করেছেন?সে জবটি কেন ছেড়ে দিতে হলো?
24. আপনার নিজের সম্পর্কে (ইংরেজিতে/বাংলাতে) বলুন?
25. আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে বলুন?
26. আপনার নিজের Strength / Weakness (SWOT: S-Strength ,W-Weakness, O-Opportunity, T-Threat) কি কি বলে মনে করেন?
27. একটি শব্দে/তিনটি শব্দে আপনি নিজেকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
28. যে পদের জন্য আবেদন করেছেন তাঁকে অন্যগুলোর সঙ্গে কিভাবে তুলনা করবেন?
29. আপনার তিনটি গুন ও দুর্বলতার কথা কি বলতে পারেন?
30. বর্তমান চাকুরীটি কেন ছেড়ে দিতে চান ?
31. ক্যারিয়ারের কোন বিষয়টি নিয়ে আপনি গর্ব করবেন?
32. কোন ধরনের বস ও সহকর্মীদের সাথে কাজ করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সফল হয়েছেন? কেন?
33. একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে চিন্তা করেছিলেন?
34. যেকোনো ১ টি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পেলে আপনি কোথায় চাকুরী করতেন?
35. আগামীকাল কোটি টাকা হাতে পেয়ে গেলে আপনি কি করবেন?
36. আপনার বস অথবা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্বারা কি কখনো সততা বিসর্জনের প্রস্তাব পেয়েছেন?
37. আপনার সঙ্গে কাজ করতে না চাওয়ার ১ টি কারণ বলতে পারেন?
38. এতদিন কাজ থেকে দূরে ছিলেন কেন?
39. এই ইন্টার্ভিউয়ের জন্য কিভাবে সময় পেলেন?
40. একটি সমস্যার কথা বলুন যার সমাধান আপনি নিজে করেছেন?
41. আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন বা দলগতভাবে কাজ করেছেন এমন একটি অবস্থার বর্ণনা দিন?
42. আগামী ৫-১০ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান
43. আপনাকে আমাদের কেন নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
44. আমাদের কোম্পানিতেই কেন কাজ করতে চান?
45. হার্ড ওয়ার্ক এবং স্মার্ট ওয়ার্ক বলতে কি বুঝেন?
46. চাপের মধ্যে কাজ করা (Work under Pressure) বলতে কি বুঝেন?
47. ভ্রমন করাকে কিভাবে দেখছেন? প্রয়োজনে ভ্রমন বা ট্রান্সফার হওয়াকে কিভাবে গ্রহন করবেন?
48. আপনার জীবনের লক্ষ্য কি?
49. কি আপনাকে রাগিয়ে তোলে?
50. কি আপনাকে প্রেরণা (Motivation) যোগায়?
51. আপনার জীবনের করা কিছু ক্রিয়েটিভ কাজের উদাহরণ দিন?
52. আপনি কি একা কাজ করতে পছন্দ করেন নাকি দলকে সাথে নিয়ে কাজ করা কে বেশি গুরুত্ব দেন?
53. আপনার করা কিছু দলগত কাজের উদাহরণ দিন?
54. লিডার হিসেবে নিজেকে আপনি ১ থেকে ১০ এর মাঝে কত দিবেন?
55. রিস্ক নিতে কি পছন্দ করেন?
56. আপনার পছন্দের কিছু চাকরি, অফিস লোকেশান এবং কোম্পানির উদাহরণ দিন? ৩২। আমাদের কোম্পানি সম্পর্কে কিছু বলুন?
57. আজ থেকে দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান নিজেকে?
58. আপনার আগের কোম্পানি থেকে কেনো চাকরি ছেড়ে দিতে (Resign) দিতে চাচ্ছেন?
59. কাজ থেকে কেন অনেক দিন বাহিরে ছিলেন?
60. অনেক গুলি কোম্পানি কেনো পরপর পরিবর্তন করেছেন?
61. আপনার করা সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ কি ছিলো?
62. সবচেয়ে কঠিন যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করেছিলেন তা কি ছিলো?
63. আপনাকে যদি আমরা নিয়োগ দেই কি কি পরিবর্তন আপনি আনতে পারবেন বলে মনে করছেন?
64. আপনার কি মনে হয় যে আপনি আপনার আগের কাজে আপনার সর্বোচ্চটা দিয়েছিলেন?
65. আপনার চেয়ে বয়সে ছোট কাউকে রিপোর্ট করাকে কিভাবে দেখবেন আপনি? ৪২। আপনি কি আপনাকে সফল মনে করেন?
66. আপনার জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য বিগত বছরে কি কি করেছেন?
67. আর কোথায় কোথায় চাকরির জন্য আবেদন করেছেন?
68. আমাদের কোম্পানির কারো সাথে কি পরিচয় আছে?
69. আপনাকে যদি নিয়োগ দেওয়া হয় কত দিন আমাদের সাথে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
70. আপনি কি কাউকে কখনো চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন? কেন করেছিলেন, কি পন্থা অবলম্বন করে করেছিলেন? তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কি ছিলো?
71. ব্যখ্যা করুন আপনি কিভাবে আমাদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হবেন?
72. আপনার দেওয়া কোন সাজেশন ম্যানেজমেন্ট গ্রহন করেছে এমন একটি উদাহরণ দিন?
73. আপনার কলিগদের আপনার সম্পর্কে কি মন্তব্য?
74. নতুন টেকনোলজিকে কিভাবে গ্রহন করছেন আপনি? কি কি সফটওয়্যার এর সাথে আপনি পরিচিত?
75. আপনার শখ কি বা কি করতে ভালো লাগে?
76. আপনার নিজের সময় জ্ঞান সম্পর্কে বলুন?
77. আপনি কেমন বেতন আশা করছেন বা আপনার সেলারি এক্সপেকটেশন কি?
ইন্টারভিউয়ের শেষে সাধারণত জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনার কি কিছু জানার আছে?’
প্রশ্ন তো জানা হলো। এবার উত্তরের পালা। এসকল প্রশ্নের পিছনের রহস্য কি, কেনো আপনাকে এ ধরনের প্রশ্ন করা হয় আর কি হতে পারে এর সম্ভাব্য উত্তর? প্রশ্নের উত্তর আমাদের কে কমেন্ট বক্সে জানান, তাহলে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে।
আপনার মনে হতে পারে এই প্রশ্নটি সবচেয়ে সহজ। কিন্তু আপনি যা ভাবছেন আসলে ব্যাপার তা নয়। কারণ প্রশ্নকর্তা আপনার কথাগুলো খুবই মনযোগ দিয়ে শুনবে। আপনি কেমন বলতে পারেন? আপনি কি আত্মবিশ্বাসী? আপনার কি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কথা বলার মতো যোগ্যতা আছে? প্রশ্নকর্তা আপনার কথার মাধ্যমে এ সবগুলো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিবেন। এই প্রশ্নের উত্তরে আপনার জীবনের পুরো ইতিহাস বলার প্রয়োজন নেই। চাকরির সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন।

ভাইভা বোর্ডে অবশ্য পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো যা একজন চাকরি প্রার্থীর সফলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১• অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সালাম জানাতে হবে। পরীক্ষকগন বসতে বললে বসতে হবে এবং বসতে না বললে একটু অপেক্ষা করে অনুমতি নিয়ে বসতে হবে। অনুমতি ব্যতিত বসা যাবে না। বসার সঙ্গে সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে হবে। সোজা হয়ে বসুন, পায়ের উপর পা তুলে অথবা পা দুটো আড়াআড়ি করে বসা যাবে না। হাত দুটো টেবিলের উপরে রাখা যাবে না। ভাইভা যারা নিবেন তাদের দিকে সোজাসুজি তাকান, মাটির দিকে বা ঘরের কোণ বা ছাদের দিকে তাকাবেন না।

২• নিজেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন। আত্নবিশ্বাসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।

৩• একজন প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় অন্যদের দিকে তাকাতেও ভূলবেন না। অতি সুকৌশলে নিজের বুদ্ধিমত্তা এবং উত্তম গুনাবলী ও জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে পরীক্ষকগনকে ধারনা প্রদানের চেষ্টা করুন।

৪• মনোযোগ দিয়ে প্রথমে প্রশ্নটি শুনুন ও বোঝার চেষ্টা করুন। প্রথমবারে যদি প্রশ্নটি বুঝতে না পারেন তবে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আর একবার প্রশ্নটি করতে বলুন।

৫• উত্তর দেয়ার সময় প্রত্যেকটি শব্দ স্পষ্ট করে এমনভাবে উচ্চারন করুন যেন সবাই শুনতে পায় এবং খেয়াল রাখুন উত্তরের সাথে যেন আপনার আত্মবিশ্বাস প্রতিফলিত হয়। সময় নষ্ট না করে উত্তর দিন। জানা না থাকলে কালক্ষেপন না করে দ্রুত বলুন, দুঃখিত আমার জানা নেই। অগোছালো ভাবে এদিক সেদিক না ঘুরিয়ে যথাযথ উত্তর দিতে হবে। যুক্তির সাথে বক্তব্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

৬•আচরনে কোন প্রকার জড়তা রাখা যাবে

না। গোমরা মুখে থাকবেন না। নিজেকে হাসি হাসি মুখ করে রাখুন। ভাইভা যারা নিচ্ছেন তাদের সঙ্গে ভুলেও (যদি ঐ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ইচ্ছা থাকে) তর্কে জড়িয়ে পড়বেন না। নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধ মত জানানোর আগে বিনয়ের সাথে বলবেন- মাফ করবেন বা কিছু মনে করবেন না বলে নিন। কর্কশভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া বাঞ্চনীয় নয়। উঁচু গলায় প্রশ্ন এলেও উচু গলায় উত্তর দেয়া যাবে না। স্বাভাবিক স্বরে উত্তর দিন।

৭• মুদ্রাদোষ গুলো সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকুন। গোঁফে হাত বুলানো, চুল ঠিক করা, নাক চুলকানো, টাই ঠিক করা, গলা দিয়ে শব্দ করা বা জামা কাপড় ঠিক করবেন না। নিজে নিজে হ্যান্ডশেক করার জন্য আগে হাত বাড়াবেন না। নিয়োগকর্তাগন যদি করমর্দনের জন্য হাত বাড়ান তাহলে মোলায়েম ভাবে করর্মদন করুন।

৮• আবেগ তাড়িত হয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে না। উত্তর দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ব্যক্তি, সমষ্টি, জাতি, ধর্ম বা রাষ্ট্র সম্পর্কে কোন প্রকার অবমাননাকর বা অপ্রীতিকর কথা বেয়িয়ে না যায়।

৯• যে কোন বিষয়ে কোন অজুহাত না দেখিয়ে এবং কোন তথ্য সম্পর্কে ছলনার আশ্র্রয় না নিয়ে সততার পরিচয় দিন।

১০• নিজেকে উপস্থাপন করুন আকর্ষণীয়ভাবে। যেমনটি কোন পণ্যের দক্ষ বিক্রেতা করে থাকেন। যেমনঃ

– নিয়োগকর্তা কি কি গুণ আপনার মধ্যে খুঁজে পাবেন।

– গুন ও মূল্যগত দিক দিয়ে প্রার্থী হিসেবে আপনি কেন অন্যদের থেকে আলাদা এবং আপনাকে নিলে নিয়োগকর্তা কিভাবে লাভবান হবেন।

– প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য আপনি কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারেন।

– আপনার উল্লেখ করার মতো কোন সাফল্যের বিষয় থাকলে বিনয়ের সাথে বলুন।

কৃতজ্ঞতা
জাকির’স বিসিএস এন্ড স্পেশাল

Law Giant

A lawyer is a 'legal practitioner' who is an advocate, barrister, attorney, solicitor or legal adviser. Lawyers work primarily to solve the legal problems of individuals or organizations through the practical application of theoretical aspects of the law.

One Comment

  1. প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানার জন‍্য কোনো উপায় আছে। এমন অনেক প্রশ্ন আছে যেগুলোর উত্তর জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button