ফ্রিল্যান্সিং

ফাইভারে বেশি বেশি কাজ পাওয়ার উপায়!

ফ্রীলান্সিং এর কাজ করার জন্য ফাইভার বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস। বায়ার ও সেলার উভয়ের কাছে জনপ্রিয়। দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের চেয়ে তুলনামূলক সহজ ও চাহিদা বেশি থাকায় নতুন অনেকে কাজ শিখার পর ফাইভারের মাধ্যমে টাকা আয় করতে আগ্রহী হচ্ছেন। দেখা যাচ্ছে কেউ অনেক কাজ পাচ্ছে আবার কেউ কাজই পাচ্ছে না। তাহলে সমস্যা কোন জায়গায়? 

  • আপনি যদি নতুন ফ্রি ল্যান্সার হন তাহলে কখনওই উলটা পালটা ডিজাইন ট্রাই করে গিগ ক্রিয়েট করবেন না। যদি এমন করতে থাকেন তাহলে ফাইভার আপনার গিগের ইম্প্রেশন কমিয়ে দিয়ে র্যাংকিং এর নিচের দিকে রাখবে, যাতে করে আপনি কাজ তো দূরের কথা ক্লিক রেটও পাবেন না। এমন করলে পরে যখন আপনি স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন এর গিগ দেবেন তখন সেটা আর র্যাংক পাবে না।
  • আপনি যেটা ডিজাইন করতে পারেন না সেটা কোনো জায়গা থেকে কপি করে গিগ এর ছবিতে কখনওই দেবেন না। যদি দেন, আর তারপর যদি কাস্টোমার সেটার ডিমান্ড করে বসে আর আপনি তা না দিতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনার রেটিং এ অনেক ধরনের প্রভাব পরতে পারে।
  • কখনওই আপনি হুবহু কারো ডিজাইন কপি করে ফাইভার গিগে দেবেন না । যদি দেন আর কোনো কাস্টোমার যদি আপনার গিগ কেনার পর সেটা বুঝে ফেলে তাহলে আপনার রেটিং এ প্রভাব পরতে পারে।
  • আপনি আপনার দক্ষতার মধ্যেই আপনার নিজস্ব মটো বা প্রোফেশনালিটি খুঁজে বের করুন, এতে সকল ডিজাইনার থেকে আপনি ইউনিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারেন। এটা অনেক জরূরী, এর কারণ হলো বাজারে অভিজ্ঞ ডিজাইনারের অভাব নাই সেখানে আপনাকে বায়ার চয়েজ হিসেবে কেন রাখবে! সেই জন্যই আপনার নিজের একটা ইউনিকনেস তৈরি করতে হবে।
  • মনে রাখবেন, আপনি কাস্টোমারের সাথে কথা বলার সময় কখনোওই মিথ্যা কিছু বানিয়ে বলতে যাবেন না। কেননা বেশির ভাগ কাস্টোমারই ডিজাইন সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখে, তাই এসব কথা-বার্তা আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।
  • কাস্টোমার হ্যান্ডেলিং করার সময় কখনওই বেশি ক্যাবলামি বা চামচামু করবেন না, নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে সঠিক তথ্য ও নিজের সুবিধা মাথায় রেখে যে কাজে কাস্টোমারের উপকার হয় তা করে দেয়ার চেষ্টা করবেন। এতে কাস্টোমার খুশি হলে আপনাকে রেটিং দেয়ার সাথে সাথে ভবিষ্যতেও অনেক কাজ দিতে পারে।
  • গিগ তৈরির সময় নতুন ফ্রিল্যান্সাররা বিশেষ ভুল করে থাকে গিগের ছবির ক্ষেত্রে। আপনি গিগ তৈরির ক্ষেত্রে যত অপশন আর ডিফারেন্স তুলে ধরতে পারবেন ততই আপনার গিগ আকর্ষণীয় হবে। ডিফারেন্স দেখাতে আপনি কমপক্ষে ৫+ ডিজাইন যোগ করবেন।
  • গিগের ছবিগুলো নিজের ওয়াটার মার্ক অথবা ফাইভার ওয়াটার মার্ক দ্বারা সীল করতে পারেন । এতে ডিজাইন চুরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
  • গিগ রেটে এমন অবিশ্বাস্য কোনো রেট ব্যবহার করবেন না।যেমনঃ বিজনেস কার্ড ডিজাইন+এনভেলোপ+লেটারহেড+ইনভয়েজ অনলি ৫ ডলার। এমন ধরনের অফার দেখলে বায়াররা বুঝে যায় যে আপনি কোনো ফালতু বা কপি ডিজাইনার। আপনি সব সময় এমন একটা রেট সেট করবেন যা আপনার কাজের সাথে মানানসই হতে পারে। আপনার প্রথম গিগে আপনি ১০০ ডলার থেকে শুরুর অফার দিচ্ছেন, তাতেও আপনার কাজ দেখে বায়ার গিগ কিনতে পারে কিন্তু অল্প দামে বেশি অফারগুলো ফাইভারে ফেসবুকে বেচা ৪০০০ টাকায় আইফোন ১২ ম্যাক্স প্রো বেচার মতো। নতুন বায়ার ছাড়া সব বায়ার এমন সেলারদের এড়িয়ে চলে। তাই গিগ তৈরির আগে আপনার ডিজাইনের ধরণের দাম বাজারে কেমন তা একটু রিসার্চ করে দাম সেট করতে পারেন। এতো স্টেশনারি আইটেম বাদেও শুধু বিজনেস কার্ডও ৫০০ ডলারে বেচা যায় তাই অফারে ফোকাস না করে ডিজাইনে ফোকাস করলে আপনার কাজও ভালো হবে সেলও ভালো হবে।
  • লো কম্পিটিশন বা লো সার্চ ভলিউম কি ওয়ার্ড গুলা আসলে খুব একটা কাজে দেয় না আমি মনে করি। ঘুরে ফিরে হাই ভলিউম কী ওয়ার্ড ব্যবহার করলে যেমন কম্পিটিশন বেশি থাকে তেমনি লো ভলিউম কী ওয়ার্ড গুলাতে কম্পিটিশন কম থাকলেও এই কী ওয়ার্ডে সার্চ কম হয় ফলে যে লাউ সেই কদু। এর চেয়ে আমি মনে করি যে কী ওয়ার্ডই ব্যবহার করা হোক না কেন, বেশি অনলাইন থাকা আর বেশি করে গিগ মার্কেটিং করা উচিত কী ওয়ার্ড এর উপর ভরসা না করে। আজকে যেটা লো কম্পিটিশন এর কী ওয়ার্ড সামনের মাসে সেটা হাই হতে পারে আবার আজকে বেটা হাই কম্পিটিশন কী ওয়ার্ড সেটা কয়েক মাস পর লো হতে পারে। ফাইভারের এলগরিদমটাই আসল।
  • 24 ঘন্টাই অনলাইনে থাকার চেষ্টা করুনযারা ফাইভারে একেবারেই নতুন তারা ২৪ঘন্টা আইডি একটিভ রাখার চেষ্টা করুন।এতে আপনার কাজ পাওয়ার পসিবিলিটি বেড়ে যাবে। ক্লাইন্ট মেসেজ দিলে দ্রুত রিপ্লে করার চেষ্টা করুন।এবং ক্লাইন্ট কনভেন্স করার ট্রাই করুন।
  • শেষ টিপসটা একটু ব্রান্ডিং টিপস, আপনি ফাইভারের সাথে যে সোস্যাল মিডিয়া আইডিগুলো এড করেছেন সেগুলোতে আপনার প্রোফাইল পিক আর ফাইভার প্রোফাইল পিক সব সময় একই রাখবেন। দরকারে প্রতি পাঁচ বছরে একবার চেঞ্জ করতে পারেন। সোস্যাল মিডিয়ার এই ট্রিকটা অনেক কাজ পাইয়ে দেয়। কেননা বায়ার আপনার নাম মনে না রাখলেও প্রোফাইল পিক মনে রাখে তাই সে যে কোনো জায়গায় যাতে সহজে আপনাকে খুঁজে পায় এর জন্যই এই ট্রিকটা। আসলে আপনার প্রোফাইল পিকটা একটা ব্রান্ড হিসেবে এক্ষেত্রে কাজ করতে থাকবে। এই ছোট্ট একটা ট্রিকের মাধ্যমে প্রো সেলাররা লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করে। তাই এক টাকা বেশি পাওয়ার আশায় হলেও এটা করতে পারেন। সাথে মনে রাখবেন, সোস্যাল মিডিয়া যেটা আপনি বিজনেস আইডির সাথে এড করবেন সেই সোস্যাল মিডিয়ার ফালতু টপিক কম শেয়ার করে সোস্যাল মিডিয়ায় ও বায়ারের কাছে আপনার ব্যক্তিত্ব বজায় রাখবেন। সব থেকে ভালো হয় যদি আপনি পার্সোনাল সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট বিজনেস আইডির সাথে এড না করে বিজনেস আইডির জন্য আলাদা একটা সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট তৈরি করে নেন।

আইন ব্যবসায়ী

আইনজীবী হলেন 'আইন ব্যবসায়ী', যিনি একজন এ্যাডভোকেট, ব্যারিস্টার, এটর্নি, সলিসিটর বা আইনি উপদেশক। আইনজীবী মূলত আইনের তাত্ত্বিক বিষয়গুলির বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তির বা সংস্থার আইনি সমস্যার সমাধানের কাজ করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button